শহর বানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কের বেহাল দশা: অল্প বৃষ্টিতেই চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

0 Shahgonj News
ছবি : বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

মেঘ জমলেই আতঙ্ক নেমে আসে ময়মনসিংহের শাহগঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে এলাকার প্রধান সড়ক। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী শাহগঞ্জ শহরবানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনের সড়কের পরিস্থিতি যেন এক ভয়াবহ চিত্র ধারণ করে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন এবং ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের মাঝারি বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকা ড্রেনগুলো বছরের পর বছর পরিষ্কার না করায় সেগুলো এখন ময়লা-আবর্জনায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। বরং ড্রেনের নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপচে সড়কের উপর উঠে আসে। এতে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে তাদের। এতে শুধু দুর্ভোগই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে দিন দিন।

 

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টির সময় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল কিংবা অন্যান্য যানবাহন চলাচল করলে পানির ছিটায় তাদের পোশাক, বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়ে যে মাঝপথ থেকেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয় তারা।

 

এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে,
“একটি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়? প্রতিদিন নোংরা পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। এতে অনেকেই চর্মরোগসহ বিভিন্ন অসুস্থতায় আক্রান্ত হচ্ছে।”

 

দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকার কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানির নিচে এসব গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই রিকশা কিংবা ইজিবাইক উল্টে আহত হচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে রাতের সময় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

স্থানীয় রিকশাচালকরাও এই সড়কে চলাচল করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকেই জানান, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে। ফলে কেউ যেতে রাজি হলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

 

এদিকে রাস্তার পাশের ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। দোকানের সামনে কাদা ও নোংরা পানি জমে থাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক দোকানির অভিযোগ, বর্ষা এলেই তাদের ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্রেতাই ওই এলাকায় যেতে চান না।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাময়িক সংস্কার করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তারা বলছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং সড়ক উঁচু করে পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

 

এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। শাহগঞ্জবাসীর একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.