নিজস্ব প্রতিবেদক | ময়মনসিংহ
আপডেট: ৫ জুলাই, ২০২৬
ময়মনসিংহে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম রুবেল। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে চার ভাইসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিহত রুবেলের বিরুদ্ধে রকি নামের এক যুবকের মাকে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই ধর্ষণের ঘটনার জেরে পূর্ববিরোধের একপর্যায়ে রকি ও তার আরও তিন ভাইসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত রুবেলের বাড়িতে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে রকি ও তার ভাইয়েরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের ওপর চড়াও হন। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং গলা কেটে গুরুতর জখম করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় রুবেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রকি ও তার তিন ভাইসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট কী, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে ওই নারীর ওপর ধর্ষণের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সত্যতাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে:
"অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এই ঘটনা বা জড়িত পক্ষগুলো সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।"

