ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে গৌরীপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের কাশিয়ার চর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই কাশিয়ার চর এলাকায় গোপনে মাদক কেনাবেচা চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গৌরীপুর থানার একটি চৌকস টিম ওই এলাকায় নজরদারি শুরু করে। পরে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে আটক হন কাশিয়ার চর গ্রামের বাসিন্দা আইনুল হকের ছেলে আল-আমীন (৩৫) এবং তার স্ত্রী শ্যামলী (৩০)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় গোপন রেখে এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযান চলাকালে পুলিশ তাদের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং প্রায় ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক হাজার টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকসহ আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়। পরদিন বুধবার (১৩ মে) তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে দুপুরে তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মো. হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন,
“মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। আমরা একটি মাদকমুক্ত গৌরীপুর গড়ে তুলতে চাই। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতারের ঘটনায় কাশিয়ার চর গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও কমে যাবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, শুধু পুলিশের অভিযানই নয়, মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকেও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে গৌরীপুর উপজেলাকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হবে।

