ঈশ্বরগঞ্জে মাদকসেবীকে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ: এসআই জালাল ক্লোজড

শাহগঞ্জ নিউজ  |  আপডেট: ১৩ মে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শাহরিয়ার ফয়সাল নামে এক মাদকসেবীকে আটকের পর তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিনকে ক্লোজ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) নির্দেশে তাকে ঈশ্বরগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

গত রোববার (১০ মে) পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে এই শাস্তিমূলক নির্দেশ দেওয়া হলেও, বুধবার (১৩ মে) বিষয়টি এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

মাদকাসক্ত ফয়সালের অত্যাচার ও আটক প্রসঙ্গ

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দভাকুরী গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহরিয়ার ফয়সাল চরম মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জোগাড় করতে সে দীর্ঘদিন ধরে তার নিজের পরিবারকে নানাভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। মাদক সেবনের অভিযোগে এর আগেও ফয়সাল একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল।

সম্প্রতি, পুনরায় মাদক সেবনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফয়সালকে আটক করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জালাল উদ্দিন। তবে অভিযোগ উঠেছে, মাদক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলেও পর্দার আড়ালে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ভিন্ন দুর্বল ধারায় তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের এমন রহস্যজনক আচরণে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ

পুলিশের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরুপায় হয়ে পুরো বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে অবহিত করেন। সংসদ সদস্য ঘটনাটি শোনার পরপরই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।

অভিযুক্ত এসআই ও ওসির বক্তব্য

অর্থ আদায়ের সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লোজড হওয়া এসআই জালাল উদ্দিন দাবি করেন, "টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত একটি জমিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয় আপস-মীমাংসার জন্য আমি দুই পক্ষকে থানায় আসতে বলেছিলাম।"

এই বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, "একটি সাধারণ অভিযোগের তদন্ত করার জন্য এসআই জালালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে আগে জানায়নি। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়েছে।"

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.