![]() |
| ছবি-শাহগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ড |
নিজস্ব প্রতিবেদক | ময়মনসিংহ
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ-উৎসব শেষ হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে। কোরবানিকে কেন্দ্র করে কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফিরলেও এখন শুরু হয়েছে কর্মস্থলে ফেরার ব্যস্ততা। কিন্তু ঈদ শেষ হওয়ার পরও ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শাহগঞ্জ–ময়মনসিংহ সড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি। অভিযোগ উঠেছে, এখনো স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণ পর্যন্ত আদায় করছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা।
স্থানীয় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ সময়ে শাহগঞ্জ বাজার থেকে ময়মনসিংহ ব্রিজ মোড় পর্যন্ত জনপ্রতি সিএনজি ভাড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকা হলেও বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা এখনো বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সোমবার সকালে শাহগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ও দূরপাল্লার যাত্রীদের ভিড় এখনো বেশ চোখে পড়ার মতো। অনেকেই কোরবানির মাংস ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাতায়াত করছেন। তবে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
“ঈদের দুই-তিন দিন বেশি ভাড়া নেওয়া কিছুটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু ঈদ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরও কেন দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হবে? প্রতিবাদ করলে অনেক চালক গাড়িতে না নেওয়ার হুমকি দেন। আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি।”
একাধিক যাত্রী জানান, নির্ধারিত ভাড়ার কোনো তালিকা না থাকায় চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে কয়েকজন সিএনজি চালক বলেন, ঈদের পরও সড়কে যানজটের কারণে সময় বেশি লাগছে। পাশাপাশি অনেক সময় ফিরতি পথে যাত্রী না পাওয়ায় খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হয়। এসব কারণেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
যাত্রীদের অভিযোগ, এই রুটে নিয়মিত তদারকির অভাবে চালক ও বুকিং কাউন্টারের কিছু লাইনম্যান সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন— ঈদ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরও কেন বহাল থাকবে ‘ঈদ ভাড়া’? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

